Page 60 ( Mrittikawebmag ) ধরাই (অণু গল্প) -মানস সরকার
এক সপ্তাহ হল পম্পাই চুপ মেরে গেছে। এমনিতেই কম কথা বলে।
বললেও প্রয়োজনের বাইরে নয়। ইংলিশ মিডিয়াম কালচার ওকে অন্য কিশোরদের
থেকে বাড়তি গম্ভীর করেছে। আমার, মানে ওর দাদুর সঙ্গেও প্রয়োজনের বাইরে
কথা বলে না। ক্লাস টেনে পড়া কারোর এ রকম ব্যক্তিত্ব আমার না-পসন্দ।।
অবশ্য পম্পাই আসবেই বা কেন ! সে চায় ‘গ্যাজেটেড'
পৃথিবীর গল্প, আমি বলি, পঞ্চতন্ত্র আর রূপকথার। আর বলি এ শহরের কথা। মুখ
কুঁচকে সামনে থেকে উঠে চলে যায় পম্পাই। ছেলে, ছেলের বউ দুজনেই
মালটিন্যাশনালে। নাতির হাতে উঠে এসেছে স্মার্ট ফোন আর ল্যাপটপ। নেটের
সুদৃশ্য অথচ অদৃশ্য কারসাজি। আমি বাষট্টি’র অবসরপ্রাপ্ত রাজ্যসরকারি।
নাতি আনন্দে মশগুল দেখলে ভাল লাগে।
শেষ একটা সপ্তাহ সেরকমই একটা সময়। সকালের জলখাবারে
পম্পাই’এর অমনোযোগ। সরাসরি প্রশ্ন করি, কী ব্যাপার, খেতে ভাল লাগছে না?
- না।
জলখাবারের আয়োজন রান্নার লোকের। পম্পাই’এর বাবা-মা রোজ সকাল আটটা থেকে
রাত আটটা প্রায় নিরুদ্দেশ থাকে।
আমিই বলি, - কেন?
- তুমি বুঝবে না।
- তুই বুঝিয়ে দিলেই বুঝব।
পম্পাই বেরিয়ে গিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়ায়। আমি ওর পেছনে। আজ
বিশ্বকর্মা। আকাশে
দু'একটা ঘুড়ি। নাতি মাথা নিচু করে রেলিং - এ ঠেস দিয়ে।
- তাহলে তোর ফেসবুক খুলে বসলেই একটু হয়। মনটা ভাল হয়ে যেত।
ওর পিঠে এবার হাত রাখি।
- ভাল লাগছে না।
- সেটাই তো। কেন?
- বললে বুঝবে? স্কুলে ইংলিশে প্রজেক্ট দিয়েছে। করতে পারছি না।
- কেন, তোর স্যার?
- ওয়ান উইক ছুটিতে আছেন।
এক সেকেন্ড চুপ করে জিজ্ঞাসা করি, কী প্রজেক্ট?
- কি হবে শুনে!
-আহা বল না -
- প্রায় ১০০০ শব্দে লিখতে হবে, 'যদি আমি উড়তে পারতাম...' ..ইফ
আই কুড ফ্লাই...'
- তা সমস্যাটা কোথায়?
- সমস্যা! চেষ্টা করছি.... আই ক্যান হার্ডলি ইমাজিন....
- আচ্ছা। তুই থাক। আমি একটু আসছি। বেরিয়ে যাই বাজারে।
# # #
ছাদে এখন আমি আর পম্পাই। চমৎকার হাওয়া।দূর থেকে
কোথাও গানের দমক।
এক রাশ নীল মুগ্ধতা নিয়ে পম্পাই বলেছে,
-এত পলিউশন, তাও কি বিউটিফুল না?
আমি হাসি, নে এবার লাঠাইটা হাতে নে।
ও বলে, - আমি যে পারি না।
বললাম, - পারতে হবে না। আকাশ দ্যাখ। ঘুড়ি ওড়ানো তো বাহানা।
আসলে দু'জনে আকাশ দেখব। এই এক দিন অন্তত।
আমি ঘুড়ি ধরে সুতো টান টান করে বলি, - আমি ঘুড়িটা
ছাড়লেই তুই শুধু
লাঠাই গুটাবি আর ছাড়বি ..... হাওয়ার সাথে সাথে।
এক বারেই পেরে গেল ছেলেটা। কী তাড়াতাড়ি শিখে ফেলল।
উত্তেজনায় পম্পাই ফুটছে। ঘুড়ির সাথে উড়েই চলল .....
উড়তেই থাকল....
মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ঘুড়ি যেন এক বিন্দু। লাঠাই ওর হাতে ঘুরছে, আর
পম্পাই সুতো ছেড়েই যাচ্ছে....
বললাম, - একদম গুটোবি না। ছাড়তে থাক। যত পারিস ছাড়তে থাক।
বললেও প্রয়োজনের বাইরে নয়। ইংলিশ মিডিয়াম কালচার ওকে অন্য কিশোরদের
থেকে বাড়তি গম্ভীর করেছে। আমার, মানে ওর দাদুর সঙ্গেও প্রয়োজনের বাইরে
কথা বলে না। ক্লাস টেনে পড়া কারোর এ রকম ব্যক্তিত্ব আমার না-পসন্দ।।
অবশ্য পম্পাই আসবেই বা কেন ! সে চায় ‘গ্যাজেটেড'
পৃথিবীর গল্প, আমি বলি, পঞ্চতন্ত্র আর রূপকথার। আর বলি এ শহরের কথা। মুখ
কুঁচকে সামনে থেকে উঠে চলে যায় পম্পাই। ছেলে, ছেলের বউ দুজনেই
মালটিন্যাশনালে। নাতির হাতে উঠে এসেছে স্মার্ট ফোন আর ল্যাপটপ। নেটের
সুদৃশ্য অথচ অদৃশ্য কারসাজি। আমি বাষট্টি’র অবসরপ্রাপ্ত রাজ্যসরকারি।
নাতি আনন্দে মশগুল দেখলে ভাল লাগে।
শেষ একটা সপ্তাহ সেরকমই একটা সময়। সকালের জলখাবারে
পম্পাই’এর অমনোযোগ। সরাসরি প্রশ্ন করি, কী ব্যাপার, খেতে ভাল লাগছে না?
- না।
জলখাবারের আয়োজন রান্নার লোকের। পম্পাই’এর বাবা-মা রোজ সকাল আটটা থেকে
রাত আটটা প্রায় নিরুদ্দেশ থাকে।
আমিই বলি, - কেন?
- তুমি বুঝবে না।
- তুই বুঝিয়ে দিলেই বুঝব।
পম্পাই বেরিয়ে গিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়ায়। আমি ওর পেছনে। আজ
বিশ্বকর্মা। আকাশে
দু'একটা ঘুড়ি। নাতি মাথা নিচু করে রেলিং - এ ঠেস দিয়ে।
- তাহলে তোর ফেসবুক খুলে বসলেই একটু হয়। মনটা ভাল হয়ে যেত।
ওর পিঠে এবার হাত রাখি।
- ভাল লাগছে না।
- সেটাই তো। কেন?
- বললে বুঝবে? স্কুলে ইংলিশে প্রজেক্ট দিয়েছে। করতে পারছি না।
- কেন, তোর স্যার?
- ওয়ান উইক ছুটিতে আছেন।
এক সেকেন্ড চুপ করে জিজ্ঞাসা করি, কী প্রজেক্ট?
- কি হবে শুনে!
-আহা বল না -
- প্রায় ১০০০ শব্দে লিখতে হবে, 'যদি আমি উড়তে পারতাম...' ..ইফ
আই কুড ফ্লাই...'
- তা সমস্যাটা কোথায়?
- সমস্যা! চেষ্টা করছি.... আই ক্যান হার্ডলি ইমাজিন....
- আচ্ছা। তুই থাক। আমি একটু আসছি। বেরিয়ে যাই বাজারে।
# # #
ছাদে এখন আমি আর পম্পাই। চমৎকার হাওয়া।দূর থেকে
কোথাও গানের দমক।
এক রাশ নীল মুগ্ধতা নিয়ে পম্পাই বলেছে,
-এত পলিউশন, তাও কি বিউটিফুল না?
আমি হাসি, নে এবার লাঠাইটা হাতে নে।
ও বলে, - আমি যে পারি না।
বললাম, - পারতে হবে না। আকাশ দ্যাখ। ঘুড়ি ওড়ানো তো বাহানা।
আসলে দু'জনে আকাশ দেখব। এই এক দিন অন্তত।
আমি ঘুড়ি ধরে সুতো টান টান করে বলি, - আমি ঘুড়িটা
ছাড়লেই তুই শুধু
লাঠাই গুটাবি আর ছাড়বি ..... হাওয়ার সাথে সাথে।
এক বারেই পেরে গেল ছেলেটা। কী তাড়াতাড়ি শিখে ফেলল।
উত্তেজনায় পম্পাই ফুটছে। ঘুড়ির সাথে উড়েই চলল .....
উড়তেই থাকল....
মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ঘুড়ি যেন এক বিন্দু। লাঠাই ওর হাতে ঘুরছে, আর
পম্পাই সুতো ছেড়েই যাচ্ছে....
বললাম, - একদম গুটোবি না। ছাড়তে থাক। যত পারিস ছাড়তে থাক।


Comments
Post a Comment