Page 56 ( mrittikawebmag ) বিপন্ন বিশ্ব - মনিভা সাধু



পিঠে ভারি ব্যাগ,চোখে হাই পাওয়ারের চশমা, সারা শরীরে ক্লান্তির ছাপ, মুখে মাস্ক, পাশে চাকাওয়ালা ট্রলিতে অক্সিজেন সিলিন্ডারের বোতল, বিশুদ্ধ জলের বোতল --ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা গাদাগাদি করে বসে থাকা স্কুল ভ্যান থেকে নেমে স্কুলে ঢুকছে। এ দৃশ্য চোখে পড়েনি,বুঝি।পড়বে,আর কদিন পরেই সর্বত্র এই দৃশ্য দেখা যাবে।
সারা বিশ্ব এখন শুদ্ধতার অভাবে ভুগছে,জল-স্থল-বায়ু সবই দূষিত আর তারই কুফল সমগ্র বিশ্ববাসী বুঝছে তবুও সংশোধনের পথে হাঁটছে না।"আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্ব ভরা প্রাণ ", বাঙালির প্রাণের ঠাকুর,রবীন্দ্রনাথের গানেও জানতে পারি,বিশ্বের সবকিছুর মধ্যেই মানব নিজেকে খুঁজে পায়,এ এক নিরন্তর অন্বেষণ। এই সমগ্র বিশ্ব জগতে মানুষ সম্পূর্ণ আলাদা জীব শুধুমাত্র তার মনন আর মেধার জন্য।সৃষ্টির সূচনালগ্নে তাকেও বহু জীবের সাথে লড়াই করে আজকের জায়গায় পৌঁছতে হয়েছে।কিন্তু তার মানে এই নয় সে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক, বিশ্বের দরবারে তারও কিছু দেওয়ার আছে।এই যে সবুজ প্রাণবন্ত জগৎ তাকে উজাড় করে দিচ্ছে তার বদলে তাকেও এই বিশ্বকে সুখে রাখার,ভালো রাখার দায় নিতেই হবে।সে নির্বিচারে বিশ্বের জড়জগৎ এবং জীবজগত নিজের সুবিধেমত ব্যবহার করতে পারেনা।এখন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় বিশ্বের সব খবরই আমরা ইচ্ছে করলেই পেতে পারি, প্রতিনিয়ত এক সর্বগ্রাসী ক্ষমতার লোভের নিঃশব্দ লড়াই চলছে যার জন্যই বিশ্ব আজ বিপন্ন।পৃথিবীর প্রতিটি দেশই বিশ্ব নিয়ন্তা হতে চায়, সেই ক্ষমতার দম্ভ আর তার ভয়ংকর পরিণাম " দূষণ"।আর এই পরিবেশ দূষণের জন্যেই বিশ্ব আজ বিপন্ন।একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বুঝিয়ে দিচ্ছে বিশ্ব আজ ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিপন্ন।   
     মানুষ তার নিজস্ব বুদ্ধি দিয়েই বিশ্বের সর্বোন্নত প্রাণীর তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে। তার বিভিন্ন আবিষ্কার যেমন জীবনযাত্রায় সুবিধে করেছে তেমনি অনেক অসুবিধেও সৃষ্টি করেছে।বর্তমান সভ্যতার মেকি উন্নয়নের রাজসূয় যজ্ঞে বলি হচ্ছে শত শত নিরীহ বন্যপ্রাণী, জল-স্থল-অন্তরীক্ষে সর্বত্র মানুষ তার অধিকারের হাত বাড়িয়ে ভুলতে বসেছে বাস্তুতন্ত্রের প্রধান মৌলিক শর্তগুলি।এভাবে চললে সে নিজেই বিলুপ্ত প্রজাতি হয়ে যাবে সেটাও বুঝছে না।
     জেনেভা ১৯৭৯ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের বহু বিজ্ঞানী মিলিত হয়ে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তারপর ১৯৯২ রিও ডি জেনেরিও তে সামিটেও অনুরূপ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, ১৯৯৭ কিয়েটো প্রটোকল এবং ২০১৫ প্যারিস চুক্তি, পাশাপাশি বহু সমাবেশে প্রচুর সতর্কবার্তা জানানো হয়েছে, সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই জানেন তবুও পরিবেশ দূষণ হ্রাস করতে কঠোর নীতি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৮ সালের ১৩ই মার্চ জাতিসংঘ বিগত পাঁচ বছরের পরিবেশের অবস্থা সম্পর্কে  বিস্তৃত এবং কঠোর মূল্যায়ন প্রকাশ করেছিল তাতে জানানো হয়েছিল বিশ্বের অবস্থা এতোটাই মারাত্মক যে মানুষের অস্তিত্ব এক গভীর প্রশ্ন চিহ্নের মুখে। বিশ্বের নানা দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ এবং সচেতন মানুষ সতর্ক করেছেন যে পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা না নিলে মানব স্বাস্থ্য মারাত্মক সঙ্কটে পরবে।গ্রীনহাউস  এফেক্টের ফলে পৃথিবী ধ্বংসের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বের ধনী জীবনধারার সাথে জলবায়ু সঙ্কট নিবিড়ভাবে জড়িত।পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রাথমিক গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে আছে জলীয়বাষ্প, কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড এবং  ওজোন। গ্রীনহাউস গ্যাস ছাড়া পৃথিবী পৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা হতো --১৮°সেলসিয়াস(০° ফারেনহাইট)। যা বর্তমানে ১৫°সেলসিয়াস (৫৯° ফারেনহাইট)।সূর্যকিরণ থেকে পৃথিবীতে সমগ্র বিকিরণের ৩৪℅  আবার প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায় কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে বায়ুমন্ডলের জি এন জি গ্যাসগুলো পৃথিবীর তাপমাত্রাকে ধরে রাখছে গ্রীন হাউসের কাঁচের দেওয়ালের মতো তারজন্যেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে,সামান্য গ্রমেই আর্টিক সমুদ্রের বরফ,গ্রীনল্যান্ড এবং এন্টার্কটিক বরফের চাদর,বিশ্বব্যাপী হিমবাহর বরফ গলছে। বিগত গ্রীষ্মে বিশ্বের তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মাত্র দু-মাসে ছয় লক্ষ কোটি টন বরফ হারিয়েছে গ্রীনল্যান্ড,তার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২.২ মিলিমিটার বেড়ে গিয়েছে। গ্রীনল্যান্ডে যে পরিমাণ বরফ আছে তা অলে গেলে সমগ্র বিশ্বে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০ ফুট বাড়বে, আগে গরমে গললেও শীতে জমে যেতো কিন্তু এখন ক্রমবর্ধমান উষ্ণায়নের জন্য সেটাও আর হচ্ছেনা। ১৯০০ থেকে ১৯৪০ সাল অবধি হিন্দুকুশ হিমালয়ের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বরফ গলে যায় আবার ১৯৪০ থেকে ১৯৭০এ ঠান্ডা হয়, পুনরায় ১৯৭০ থেকে গলতে শুরু করেছে, পাহাড় অঞ্চলেও প্রচুর মানুষ থাকে, এই হিন্দুকুশ পর্বত ঘিরেই ২০০ কোটি মানুষ বেঁচে থাকে, তারমধ্যে ভারত, চিন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান সহ ৮টি দেশের অর্থনীতি জড়িয়ে আছে। ঊনিশশো নব্বইয়ের দশকের থেকে গ্রীনল্যান্ডের বরফ গলার পরিমাণ সাত গুণ বেড়েছে,  জলবায়ু বদলে যাচ্ছে,পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে।আর উষ্ণায়নের ফলে মনুষ্যেতর জীবদের জীবনযাত্রাও বদলে যাচ্ছে, সমুদ্রের বরফে ভেসে ভেসে মরুভল্লুক খাবার শিকার করে, তাদের প্রধান খাদ্য শিলমাছের মাংস  কিন্তু বরফের অভাবে শিলমাছের প্রজনন কমে গিয়েছে, মেরুভল্লুক চরম খাদ্যসঙ্কটে, এমনই সঙ্কটে যে খিদের জ্বালায় নিজের সন্তানের মাংসও খেতে বাধ্য হচ্ছে যা এরা কখনোই করেনা, আবার শিকারের পরে মাংস বরফের তলায় লুকিয়ে রাখছে যা মেরুভল্লুকের প্রকৃতিবিরুদ্ধ অর্থাৎ প্রতিকূল পরিবেশে তারাও স্বভাব পালটে নিচ্ছে।২০৫০সালে হয়তো এরাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।  প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এভাবে চললে শিলমাছের,মেরুভল্লুকের প্রজাতি আরও অন্যান্য অনেক লুপ্ত প্রজাতির মতোই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।অথচ সামান্য সচেতন হলেই নিজেকে বাঁচিয়েও এদের বাঁচানো যায় যেমন হিমাচলের "তুষার চিতা" র সংখ্যা আগের থেকেও বেড়েছে। পৃথিবীজুড়ে মানুষের নির্মম অত্যাচারে প্রকৃতি ধ্বংস হতে বসেছে।     
এভাবে বিশ্বের উষ্ণায়ন বাড়লে  মনে করা হচ্ছে আগামী একশো বছরের মধ্যেই সুমেরু কুমেরুতে সব বরফ জলে পরিণত হবে।সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে উপকুলবর্তী বিরাট এলাকা জলের তলায় তলিয়ে যাবে। ৮০ বছর পর হিমালয়ের এক তৃতীয়াংশ বরফ গলে যাবে, উষ্ণায়ন বাড়লে আরও বরফ গলবে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিকম্প আর ভূমিধস বাড়বে। ভাইরাস আর জলবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়বে।   মহাসাগরে উষ্ণতার পরিমাণ, অম্লতা, জলস্তর ক্রমশ ঊর্ধমুখী হচ্ছে। এছাড়া কলকারখানা, যানবাহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সবেতেই জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ার জন্য বায়ুমন্ডল দূষিত হচ্ছে।বনজঙ্গল কেটে ফেলায় বায়ুতে কার্বনডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষিকাজে রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটি দূষিত হচ্ছে, সেই ফসল খেয়ে মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে আর বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। বিভিন্ন বর্জ্যপদার্থ পচে মিথেন গাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।  মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন বর্জ্যপদার্থের প্রভাবে অসংখ্য প্রানী মারা পড়ছে, বছরে প্রায় ১০লাখ সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে, পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বর্জ্যপদার্থের পরিমাণ অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রের মাছের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যাবে। পুকুরে মাছরাঙা বা বকের থেকে মাছ বাঁচাতে যে নাইলনের জাল টাঙানো হয় তাতে আটকে পড়ে কতো মাছরাঙা, বক মারা যাচ্ছে, একদল মানুষ এখনো বনেজঙ্গলে বনমোরগ, তিতির, খরগোশ ধরার জন্য "আড়ি জাল" পেতে রাখে। এসবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।                                                                                       
সর্বভুক মানুষের সর্বগ্রাসী খিদের জন্য  এই দুনিয়ার বহুপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। উদ্ভিদভোজীদের জন্য যেমন উদ্ভিদ দরকার তেমনই মাংসভোজীদের জন্য উদ্ভিদভোজীদেরও থাকতেই হবে, চেনসিস্টেম ভাঙলেই বিপদ।  ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের হিসেব অনুযায়ী মানুষ গড়ে ক বছরে ৪২ পাউন্ড মাছ খায়, ৫০ বছর আগের তুলনায় খন দ্বিগুণ মাছ খায়, পাঁচ মহাসাগরের ৬০ শতাংশ মাছ ইতিমধ্যেই খাওয়া হয়ে গিয়েছে ওদিকে জলদূষণের কারণে মাছের সংখ্যা সেরকম বাড়ছেও না।মানুষের রসনা তৃপ্তি করতে গিয়ে ৩০১টি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন, নিষেধাজ্ঞা সত্বেও মাছ ধরার জন্যে ১৪১৪টি প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে । এরপর কি? 
বিশ্বর বিষণ্ণতা দূর করতে হলে সমগ্র বিশ্ববাসীকে সচেতন হতেই হবে আর সেজন্য সরকারি স্তরে,সামাজিক স্তরে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বের বাস্তুসংরক্ষন এবং পুনরুদ্ধার করতে হবে। ফাইকোপ্ল্যাঙ্কটন, প্রবাল প্রাচীর, বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, মাটি, ম্যানগ্রোভ, সমুদ্রের ঘাস,বায়ুমন্ডলকে সুস্থিরতা দেয় তাই তাদের রক্ষা করতে হবে।     প্রতি বছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন বা প্রতিদিন ২০০০০০ এর বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশ্ব জনসংখ্যা স্থিতিশীল করে ধীরে ধীরে সেটা হ্রাস করতে হবে আর এর জন্য দরকার  প্রকৃত শিক্ষা, লিঙ্গীয় সমতা।
বায়োস্ফিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করতে হবে। জিডিপি বৃদ্ধি এবং বাস্তুতন্ত্রের টেকসইয়ের দিকে ধনী হওয়ার তাগিদ থেকে সরে গিয়ে মৌলিক প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং বৈষম্য কমিয়ে মানব-মঙ্গলকে উন্নত করা উচিত।
বিশ্বের বিভিন্ন দেহের নেতৃবৃন্দ শুধুমাত্র ক্ষমতা ধরে থাকার জন্য জনমোহিনী নীতি প্রয়োগ না করে জনকল্যাণমুখী নীতি প্রয়োগ যাতে করে সেদিকে জোর দিতে হবে। বিজ্ঞানী, প্রচারমাধ্যম, বিদ্যালয়, কলেজ,বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশিকরে এসব ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। অকারণ বনজঙ্গল কাটা বন্ধ করতে হবে।খাদ্য বর্জ্য হ্রাস করা, উদ্ভিজ্জ খাদ্য গ্রহণে বেশি অংশগ্রহণ করতে উৎসাহ দিতে হবে, চোরাশিকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে, সঠিক পরিকাঠামো তৈরি করে বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে হবে। ইতিবাচক পরিবেশগত পরিবর্তনকে উৎসাহিত করতে আর্থিক বিনিয়োগ অধিক করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবেশ রক্ষায় জোর দিতে হবে। জৈব সারের ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।
এতো অস্ত্রশস্ত্রতে শক্তিশালী হয়েও সামান্য এক "ভাইরাস" সীমান্ত বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কতো  মানুষকে কিভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে, এই বিশ্বব্যাপী মহামারীর প্রভাব বিশ্বের অর্থনীতিতেও পড়তে বাধ্য। প্রথম মহাযুদ্ধের শেষে স্প্যানিশ ফ্লু কেড়ে নিয়েছে অগণিত মানুষের জীবন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ নিয়েছে, দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করেছে, আমেরিকান পারমাণবিক বোমা জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকি ধ্বংস করেছে, নাপাম বোমায় ভিয়েতনাম কেঁপে উঠেছে, নাজি বাহিনীর বোমায় ফ্রান্স ও ইংলন্ড কেঁপে উঠেছে, হিটলার ইহুদি নিধনে মত্ত হয়েছে,বাংলাদেশের মাটিতে পাক সেনাবাহিনী নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে, কম্বোডিয়া-ইন্দোনেশিয়ার মাটিও রক্তাক্ত হয়েছে , মার্কিন হানায় রক্তাক্ত হয়েছে ইরাক, আরও কতো ক্ষমতালিপ্সুর অকারণ দম্ভই না ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে এই বিশ্বে। তবে এসবই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। করোনা ভাইরাস কোনো সীমান্তরেখা মানেনা,এই কোভিড১৯ ভাইরাসই কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাতিয়ার?বিশ্বে প্রায় তিরিশ লক্ষ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত,মারা গিয়েছে প্রায় দুলক্ষ , বিজ্ঞানের হাতে ভাইরাস বধের ওষুধ নেই, শুধুমাত্র "কোয়ারান্টাইন " আর লকডাউন। প্লেগ,কলেরা,ইয়েলো ফিভার,গুটিবসন্ত, টাইফাস,ইবেলা এরকম বহু মহামারী অসংখ্য মানুষের প্রাণ নিয়েছে  আবারও আরেক ভাইরাসের আতঙ্কে বিশ্ব কাঁপছে। সভ্যতার অগ্রগতি কিভাবে হয়েছে? কোথায় হয়েছে?
লকডাউনে সর্বত্র দূষণ কমেছে, মানুষ গৃহবন্দী বলে পথে হরিণ,গন্ডার, হাতি,ময়ূর, অবাধে রাস্তায় নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে,সমুদ্রের ধারে কচ্ছপ ঘুরে বেড়াচ্ছে, গঙ্গার বুকে ডলফিন, শুশুক দেখা যাচ্ছে, প্রচুর পাখির কলকাকলিতে আবারও মানুষ ছাড়াও অন্য জীবের অস্তিত্ব প্রবলভাবে  টের পাওয়া যাচ্ছে।গৃহবন্দী মানুষ বাধ্যতার পরিচ্ছন্নতা শিখছে,হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সহমর্মিতা দেখাচ্ছে , সবাই দেশকালের সীমানা ছাড়িয়ে অসাম্য ভুলে একজোট হয়ে মানবসভ্যতাকে বাঁচাতে আগ্রহী হয়েছে, এগুলোও শিক্ষনীয়। কলকারখানা, যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ব হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে, নদীর জল স্বচ্ছ হচ্ছে, আকাশের রঙ পালটে যাচ্ছে, ওজোন স্তরে প্রলেপ পড়ছে, পৃথিবী আবার সুস্থ হতে চাইছে তাই হয়তো এভাবেই মানুষকে জানান দিতে চাইছে।পারস্পরিক নির্ভরতা যে আছে,থাকে তা-ও প্রমাণ হয়ে গেলো।     
    বিশেষজ্ঞদের মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সঙ্কট। এখনো সময় আছে ভেবে দেখার, মানবজাতিকে বাঁচিয়ে রাখার। রাজনৈতিক সদিচ্ছা খুব প্রয়োজন। শুধু সম্মেলনে কিছু হবেনা, সঠিক নিয়োগনীতি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।                                                                   
সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এবং সমগ্র মানবজাতি যদি সচেতন হয় তবেই বিশ্বের বিষণ্ণতা দূর হবে।

Comments

Popular Posts