Page 55 ( mrittikawebmag ) 'ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে আজো' - শৌভিক গাঙ্গুলী
খোঁজ শেষ হবেনা কোনদিন। জীবন বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ফিরে চলছে অনন্তের পথে। যে শব্দ গুলো পরম ব্রক্ষ্মের সন্ধানে ঘুরেফিরে আজো ক্লান্তি হীন তারাই বলে যায়,
"ব্রক্ষ্ম সত্য জগত মিথ্যা, জীব ব্রক্ষ্মৈব না অপরো।"
আসলে জীবনের অন্বেষণ বিরামহীন। পেয়েও হারিয়ে ফেলি, আবার পাওয়ার জন্য ফিরে আসি বারে বারে। খ্যাপা সন্ন্যাসীর সত্যানুসন্ধান সভ্যতার পরতে পরতে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছে।
নায়ক, খ্যাপা সন্ন্যাসী জীবনভর নিরলস পরিশ্রম করে, সন্ধান করে ফেরে জীবনের মূল মন্ত্র ধ্বনি। হ্যাঁ, জীবন এক খোঁজ। জন্ম থেকে মৃত্যু ছুটে চলেছি, মাঝে একটা আইসোমেট্রিক গিফ্ট হলো আপাত সম্পর্ক গুলো। আঁকড়ে ধরে শেষে হতবাক!
প্রাণের ঠাকুর তাই বলেছেন,
"অর্ধেক জীবন খুঁজি/কোন ক্ষণে চক্ষু বুজি/ স্পর্শ লভেছিল যার এক পলভর,/ বাকি অর্ধনগ্ন প্রাণ/ আবার করিছে দান/ফিরিয়া খুঁজিতে সেই পরশপাথর।"
খ্যাপা সন্ন্যাসীই আসলে সেই মানব শিশু,ছুটে চলেছে করায়ত্ত করতে ক্ষমতার চাবিকাঠি। অবোধ বোঝেনা, বেলা বয়ে যায়। সোনার হরিণের পিছনে ছুটে অবহেলা করে হারিয়ে যায় একে একে সুকুমার বৃত্তি গুলো। আসলে সম্পর্কের মোহিনী বুননের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার পাসওয়ার্ড গুলো এতো কাছে তবুও কতো দূরে। জানি না কি চাই অথবা যা পাই কখন হারাই। তাহলে স্বার্থকতা কিসে, বলা মুশকিল। আরো চাই! আরো দৌড়াই! সভ্যতার বাইপাস গুলোতে যে কয়েকটা নিরুত্তাপ কোণে পলভর অনুরণন হয় জীবনের 'ইলতেমাস', চোরাবালিতে নিশি যাপনের মোহিনী হাতছানিতে ডুবে যাওয়ার আগের মুহূর্তে বিদ্যুতঝলকের মতো আবিষ্কার করে, 'পেয়েছিল আগে, অজ্ঞাতে।'
খ্যাপা বোঝেনি আজও, অসুন্দরের মধ্যেই সুন্দর; অবিশেষের মধেই বিশেষ।
ঐ পরশপাথর ক্ষেপার চরম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। অনুসন্ধানে কাটে সময়, অজ্ঞাতে। আরো বেশি লাভের উদ্দামতা সহজ বাস্তবতাকেও দূরে ঠেলে দেয়। আসলে ছোট ছোট সুখ দুঃখের অনুভূতি গুলোই চিরন্তন, সীমার মধ্যেই অসীমের খোঁজ। অবহেলা করে মানুষ।
একা শুধু নিজের জন্য নয়, সংসার, সমাজ, দেশের মধ্যে ই আছে মহামিলনের হাতছানি। বুঝে নিতে হবে, সময় থাকতে। কারণ, 'এ জীবন চলে গেলে পাবে না তো আর'।


Comments
Post a Comment