Page 54 ( Mrittikawebmag ) চোখের আলোয় - রাণা চ্যাটার্জী
কি রে ভাই কাঁদছিস,কি হলো বল ,আয় এদিকে আয় বলে মৌ হাত বোলাতে লাগলো ভাই রনিতের মুখে।ঠিক তাই ফোঁপানোর কান্না ভুল শোনেনি আর যাই হোক জন্মান্ধ মৌয়ের ঘ্রাণ শক্তি প্রখর। মা ঘরে ঢুকতে পরিষ্কার হলো ভাই এর কষ্টের কারণ আজ সে স্কুলের স্পোর্টসে চ্যাম্পিয়ন হয়ে একটা বড়ো ট্রফি পেয়েছে,গোটা গ্রাম ঘুরে হিপ হিপ হুরে করে বাড়ি ফিরে যেই মনে পড়লো দিদির কথা,আহারে যে দিদি সকাল সন্ধ্যা তাকে উৎসাহ দেয় সেই কিনা দেখতে পাবে না এটা ভেবেই ঘরের চৌকাঠ থেকে হাপুস নয়নে কান্না আসছে তার।
মৌ প্রায়শই শুনেছে তাকে নিয়ে ভাইয়ের উদ্বেগের কথা,ইস দিদি যদি দেখতে পেত কি দারুন হতো।আর প্রতিবারেই মৌ ভাইকে স্বান্তনা দিয়েছে চিন্তা কি রে তুই বড় হয়ে ডাক্তার হবি আমার চোখ ঠিক হবে নাহয়।
হাসপাতালের বেডে উৎকন্ঠায় সারাদিন শুয়ে মৌ। চোখের জটিল অপারেশন তার সফল হয়েছে এ এক দারুন তৃপ্তির খবর। আজ কিনা সে প্রথম পৃথিবীর আলো ,মা,বাবা,ভাইকে দেখবে!এর আনন্দ যে কি কাউকে অনুভূতি দিয়ে বোঝানো দুস্কর।
এতদিন শুধুই অন্ধকার চোখে ভালোবাসা,স্নেহের অনাবিল স্রোত,দারিদ্রতার পাঞ্জা লড়াই সব লিপিবদ্ধ আছে ।ইচ্ছা করত সকলকে দেখার কিন্তু সে ছিল নিরুপায়।
হঠাৎ সুযোগ যেন কড়া নাড়লো।
এতগুলো বছরের অনুভূতি,স্পর্শ আক্ষেপ যেন এক লহমায় বানভাসি !
বুট জুতোর আওয়াজ।তবে কি ডাক্তার কাকু এলেন,এই বুঝি সেই শুভ মুহূর্ত
"চোখ খোলো, তাকাও-বলো কাকে প্রথম দেখতে চাও ?"
বাপরে ,ঝলমলে পৃথিবী,এত্ত সুন্দর!এত গুলো বছর যার ছিলো অন্ধকার জগতে বিচরণ,কল্পনায় এই আলোর জগৎ সম্পর্কে ভাবনা আজ আলোর দ্যুতি যে কি জোরালো তা দেখেই শিহরিত মৌ।একি মা উনি কে কাঁদছেন এভাবে?
অঝোর ধারায় এক মহিলা কেঁদেই চলেছেন তখনো।উদ্বিগ্ন মৌ,মা তুমি বলো উনি কে কাঁদছেন কেন?
গর্ভধারিনী মা মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
"উনি তোমার আর এক মা। দুর্ঘটনায় নিজের মৃত সন্তানের চক্ষুদানের আলোয় তুমি আজ উদ্ভাসিত।
মৌ প্রায়শই শুনেছে তাকে নিয়ে ভাইয়ের উদ্বেগের কথা,ইস দিদি যদি দেখতে পেত কি দারুন হতো।আর প্রতিবারেই মৌ ভাইকে স্বান্তনা দিয়েছে চিন্তা কি রে তুই বড় হয়ে ডাক্তার হবি আমার চোখ ঠিক হবে নাহয়।
হাসপাতালের বেডে উৎকন্ঠায় সারাদিন শুয়ে মৌ। চোখের জটিল অপারেশন তার সফল হয়েছে এ এক দারুন তৃপ্তির খবর। আজ কিনা সে প্রথম পৃথিবীর আলো ,মা,বাবা,ভাইকে দেখবে!এর আনন্দ যে কি কাউকে অনুভূতি দিয়ে বোঝানো দুস্কর।
এতদিন শুধুই অন্ধকার চোখে ভালোবাসা,স্নেহের অনাবিল স্রোত,দারিদ্রতার পাঞ্জা লড়াই সব লিপিবদ্ধ আছে ।ইচ্ছা করত সকলকে দেখার কিন্তু সে ছিল নিরুপায়।
হঠাৎ সুযোগ যেন কড়া নাড়লো।
এতগুলো বছরের অনুভূতি,স্পর্শ আক্ষেপ যেন এক লহমায় বানভাসি !
বুট জুতোর আওয়াজ।তবে কি ডাক্তার কাকু এলেন,এই বুঝি সেই শুভ মুহূর্ত
"চোখ খোলো, তাকাও-বলো কাকে প্রথম দেখতে চাও ?"
বাপরে ,ঝলমলে পৃথিবী,এত্ত সুন্দর!এত গুলো বছর যার ছিলো অন্ধকার জগতে বিচরণ,কল্পনায় এই আলোর জগৎ সম্পর্কে ভাবনা আজ আলোর দ্যুতি যে কি জোরালো তা দেখেই শিহরিত মৌ।একি মা উনি কে কাঁদছেন এভাবে?
অঝোর ধারায় এক মহিলা কেঁদেই চলেছেন তখনো।উদ্বিগ্ন মৌ,মা তুমি বলো উনি কে কাঁদছেন কেন?
গর্ভধারিনী মা মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
"উনি তোমার আর এক মা। দুর্ঘটনায় নিজের মৃত সন্তানের চক্ষুদানের আলোয় তুমি আজ উদ্ভাসিত।


Comments
Post a Comment