Page 50 ( mrittikawebmag ) ব্যাধি_কবলিত_বিশ্ব_জীবন_বাজিতে_দেউলে_নিঃস্ব - মৌলি বণিক
#ব্যাধি_কবলিত_বিশ্ব_জীবন_বাজিতে_দেউলে_নিঃস্ব
মৌলি বণিক
---------------------------------------------------------
মহামারীর দর্পণে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় দেখছে চিকিৎসাহীনতায় মানুষের অসহায় মৃত্যু - অহমিকার বিশাল ইমারতটা তাসের ঘরের মতো ফুৎকারে ভেঙে ধ্বসে পড়ছে শুধু বারবার । মৃত্যুর পর মৃত্যু - যেন মরণের সাগর; তার উপর ভাসছে মানুষ ছোট্ট একটা আশার তরীতে - যদি পার হতে পারি এই মরণ সাগর।
কিন্তু যদিবা পার হতে পারিও, পৌঁছাব কোথায় হে অনাগত কাল? হয়তো সে পৃথিবী নয় আমাদের চির চেনা পৃথিবী - মানবিকতা তার পঙ্গু জীবন যাপনে অক্ষম শরীরটা টেনে নিয়ে চলবে হাঁপাতে হাঁপাতে - পূবাকাশের লাল আবির ছড়ানো সূর্যটা আর তার কাছে আনবে না কোন প্রতিশ্রুতির আশ্বাস ভরা কাঙ্খিত সকাল। হয়তো কয়েক অমাবস্যা রাতের থেকেও বিভীষিকাময় সে আগামীকাল। সেখানে মানুষে মানুষে অস্পৃশ্যতার দেওয়াল , হৃদয়ের আবেগ জানাতে কেউ কারো ঊষ্ণ আলিঙ্গন কিম্বা কর-স্পর্শ পাবে না - শুধু ভাগ্য অট্টহাসি হেসে বলবে '' মনে পড়ে, জাত-পাত-ধর্মের বিধি নিষেধ অনুশরণের অতীত দিনগুলো? '' অস্পৃশ্যতার যে বীজ বুনেছিল মানুষ, সে আজ মহীরূহ - পৃথিবী জুড়ে মানুষ বসে আছে অনন্ত ক্ষুধা নিয়ে তার নীচে, বড় আপন নিবিড় একটু স্পর্শ, একটু ভরসার আলতো স্পর্শের আশায় । ধূ-ধূ মরুচরের মরীচিকার সাথে মুখোমুখি দেখা।
মৃত্যু এলো , আলতো ছুঁয়ে গেল পড়ে থাকা বাকি মানুষগুলোকে। কিন্তু ঠিক মতো মৃত্যু হলোনা ওদের। অস্তগামী সূর্যটা একমুঠো বিষণ্ণ আলো ছড়িয়ে দেয় - ধূসরে কমলায় মেলামেশা সে আলো পৃথিবীকে ছুঁয়ে যায় অষ্টোত্তর শতনামে - একাকীত্ব, বিষণ্ণতা, হতাশা, শূন্যতা, অনিশ্চয়তা, নিঃস্ব, স্ব-নির্বাসন, ডিপ্রেশন, নিঃসঙ্গতা, নির্জনতা, বোবা কান্না, যণ্ত্রণা....
পুরোপুরি মৃত্যু না হওয়া মানুষগুলো নতুন করে জীবনের পাঠ নিতে নিতে আবার সমুদ্র বেলাভূমি ধরে হয়তো চলতে চেষ্টা করবে -সব হারানো নিঃসঙ্গ পথিকতা। সামনে এগোনোর পথে কোলাপ্সিবল গেট বন্ধ - ত্রাস, অনটন ,বেকারত্বের মস্ত বড় বড় তালা লাগানো তাতে। এ চলা নিজের ছায়ার সাথে পিছু ফিরে চলা ফেলে আসা পথ ধরে। চলতে চলতে দেখা হবে হয়তো নাম না-জানা ফসিল, লুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির জীবন সতীর্থদের সাথে - ওদের ভগ্নাস্থি দু-চারটেতে পায়ে হোঁচট লেগে গেলে হয়তো থমকে কুড়িয়ে নিয়ে নতজানু হয়ে বসবে কেউ কেউ - নিরুচ্চার শব্দে বলতে '' ক্ষমা করো, এ'পৃথিবী তোমাদেরই ছিল- আমরা ছিলাম তোমাদের পৃথিবীতে অনুপ্রবেশকারী।'' অনুতাপের অশ্রু না ঝরলে মোছে না যে পাপ ....
(কলমে ও স্বত্বাধিকারে, মৌলি বণিক
মৌলি বণিক
---------------------------------------------------------
মহামারীর দর্পণে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় দেখছে চিকিৎসাহীনতায় মানুষের অসহায় মৃত্যু - অহমিকার বিশাল ইমারতটা তাসের ঘরের মতো ফুৎকারে ভেঙে ধ্বসে পড়ছে শুধু বারবার । মৃত্যুর পর মৃত্যু - যেন মরণের সাগর; তার উপর ভাসছে মানুষ ছোট্ট একটা আশার তরীতে - যদি পার হতে পারি এই মরণ সাগর।
কিন্তু যদিবা পার হতে পারিও, পৌঁছাব কোথায় হে অনাগত কাল? হয়তো সে পৃথিবী নয় আমাদের চির চেনা পৃথিবী - মানবিকতা তার পঙ্গু জীবন যাপনে অক্ষম শরীরটা টেনে নিয়ে চলবে হাঁপাতে হাঁপাতে - পূবাকাশের লাল আবির ছড়ানো সূর্যটা আর তার কাছে আনবে না কোন প্রতিশ্রুতির আশ্বাস ভরা কাঙ্খিত সকাল। হয়তো কয়েক অমাবস্যা রাতের থেকেও বিভীষিকাময় সে আগামীকাল। সেখানে মানুষে মানুষে অস্পৃশ্যতার দেওয়াল , হৃদয়ের আবেগ জানাতে কেউ কারো ঊষ্ণ আলিঙ্গন কিম্বা কর-স্পর্শ পাবে না - শুধু ভাগ্য অট্টহাসি হেসে বলবে '' মনে পড়ে, জাত-পাত-ধর্মের বিধি নিষেধ অনুশরণের অতীত দিনগুলো? '' অস্পৃশ্যতার যে বীজ বুনেছিল মানুষ, সে আজ মহীরূহ - পৃথিবী জুড়ে মানুষ বসে আছে অনন্ত ক্ষুধা নিয়ে তার নীচে, বড় আপন নিবিড় একটু স্পর্শ, একটু ভরসার আলতো স্পর্শের আশায় । ধূ-ধূ মরুচরের মরীচিকার সাথে মুখোমুখি দেখা।
মৃত্যু এলো , আলতো ছুঁয়ে গেল পড়ে থাকা বাকি মানুষগুলোকে। কিন্তু ঠিক মতো মৃত্যু হলোনা ওদের। অস্তগামী সূর্যটা একমুঠো বিষণ্ণ আলো ছড়িয়ে দেয় - ধূসরে কমলায় মেলামেশা সে আলো পৃথিবীকে ছুঁয়ে যায় অষ্টোত্তর শতনামে - একাকীত্ব, বিষণ্ণতা, হতাশা, শূন্যতা, অনিশ্চয়তা, নিঃস্ব, স্ব-নির্বাসন, ডিপ্রেশন, নিঃসঙ্গতা, নির্জনতা, বোবা কান্না, যণ্ত্রণা....
পুরোপুরি মৃত্যু না হওয়া মানুষগুলো নতুন করে জীবনের পাঠ নিতে নিতে আবার সমুদ্র বেলাভূমি ধরে হয়তো চলতে চেষ্টা করবে -সব হারানো নিঃসঙ্গ পথিকতা। সামনে এগোনোর পথে কোলাপ্সিবল গেট বন্ধ - ত্রাস, অনটন ,বেকারত্বের মস্ত বড় বড় তালা লাগানো তাতে। এ চলা নিজের ছায়ার সাথে পিছু ফিরে চলা ফেলে আসা পথ ধরে। চলতে চলতে দেখা হবে হয়তো নাম না-জানা ফসিল, লুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির জীবন সতীর্থদের সাথে - ওদের ভগ্নাস্থি দু-চারটেতে পায়ে হোঁচট লেগে গেলে হয়তো থমকে কুড়িয়ে নিয়ে নতজানু হয়ে বসবে কেউ কেউ - নিরুচ্চার শব্দে বলতে '' ক্ষমা করো, এ'পৃথিবী তোমাদেরই ছিল- আমরা ছিলাম তোমাদের পৃথিবীতে অনুপ্রবেশকারী।'' অনুতাপের অশ্রু না ঝরলে মোছে না যে পাপ ....
(কলমে ও স্বত্বাধিকারে, মৌলি বণিক


Comments
Post a Comment