page 30 ( mrittikamagazine ) কখনও_কি_ভেবেছো - রতন পুরকাইত

কখনও ভেবেছো ?
নীল দিগন্তের নিচে মিশে যাওয়া পথ খানি 
তোমার আমার জন্যে নয় !
ফুরফুরে বয়ে চলা মুক্ত বায়ু
তোমার আমার জন্যে নয় !
এমনকি ...ভেবেছো..
জোৎস্না স্নাত রজনীও আমাদের জন্যে নয় !

নাঃ , কাটছে না দিন
নিদারুণ পরিহাসের পাত্র অজস্র ক্লান্ত নিউরন আজ নীরবতা পালনে ব্যাস্ত
ঐ যে গঙ্গাঘাটের খেয়াগুলো , আজ মাঝিহীন
ট্রেন, বাস , প্লেনও কোনও রকম যুদ্ধ করে বেঁচে আছে
বিশ্বজনীন ভালোবাসার মন্ত্রগুলোও ম্রিয়মান
দেওয়ালের এপার ওপারে দাঁড়িয়ে আজ অনুবন্ধ,
উপায় নেই মা বলে জড়িয়ে ধরবার।

সঙ্গীহীন একা একা হেঁটে চলেছি , হেঁটে চলেছি পেটের কান্না থামাতে
হেঁটে চলেছি অদৃশ্য অজানা আশঙ্কাকে ছাতি তে ভরে
না , আজ আর সেই চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা
বন্ধুবান্ধব কিংবা আইসক্রিম ওয়ালার সাধাসাধি নেই
আজ উদ্গারের একমাত্র সাথী পিত্তথলির নিঃসৃত 
তিক্ত পুষ্কর
আর ! আর ঘর্মাক্ত কপাল থেকে ঠোটের উপরে ধেয়ে আসা ফোঁটা ফোঁটা নোনা জল

অদূরে ঐ উন্মুক্ত সাজানো গোছানো খেলার মাঠ
খেলার মতো কেউই নেই ,
চারিপাশে বসার আসনগুলোতে আজ বসে 
সুখ দুঃখের গল্প করার মতো কেউই নেই ,
নিস্তব্ধতার প্রতিজ্ঞা ভেঙে নিরিবিলি দুপুরে
একটি কোকিল ডেকেই চলেছে শুষ্ক কণ্ঠে ,
আজ আর কেউ নেই , কেউ নেই সেই সুর ধরবার।
উঠানে দাঁড়িয়ে সুরে সুর মিলিয়ে গাছের দিকে
তাকিয়ে থাকা সেদিনের সেই কিশোরী পাড়ি দিয়েছে অজানা দেশে ।

কখনও ভেবেছো ?
মিলেনিয়াম কিংবা সায়েন্স সিটির রাইডার গুলো
একদিন প্রত্নতত্ত্ববিদরা পার্ক বলে চিহ্নিত করবে
আর ঐ পৃথিবীর সমস্ত স্টেডিয়াম !
স্টেডিয়াম গুলোতে পাবে ঝুড়ি ঝুড়ি হাড়গোড়
হয়তো অনুমান করবে... 
কোন উৎসবের মাঝে কোন অজানা দুর্যোগ একসাথে এতো প্রাণ নিয়েছিল।

অ-উপন্যাসধর্মী দিশাহারা দু'পেয়ে
শূন্যে তো কথা ভাসিয়েছে
মঙ্গলেও জলের খোঁজ করে চলেছে
মহাকাশেও বাসস্থান বানিয়েছে
কিন্তু পারেনি...
পারেনি নিঃসহায় নিঃস্বদের নিষ্প্রভ বদনে হাসি ফোটাতে
পারেনি ধরণী কে অক্ষত রাখতে
নব সৃষ্টির উল্লাসে ভুলে গ্যাছে নিজেদের অক্ষমতার কথা

কখনও ভেবেছো ?
একজন মৃতপ্রায় মানুষ নিজের হাতে সাজানো চিতায় শুয়ে
মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গুনবে 
আর সেই চিতায় আগুন জ্বলবে কিনা তার জানা নেই
ভেবেছো কি কখনও
বুভুক্ষু শিশুটির নিশ্চুপ মায়ের বুক আগলে বসে থাকার চিত্রটি পুনরায় ফিরে আসবে
আর অদূরে হয়তো অপেক্ষা করবে কতক শকুন

বিজ্ঞানের বিজয়ে উল্লাসিত মন আর পিছু ফিরে দ্যাখেনি 
পিছু ফিরে দ্যাখেনি ফেলে আসা পথে উদ্বৃত্ত জঞ্জালের দিকে,
সবাই ব্যস্ত...
দিকে দিকে তার ফসল তুলতে সবাই ব্যাস্ত,
কেবল প্রতিযোগিতা আর প্রতিযোগিতা
প্রতিযোগিতায় রাখেনি ধর্মের অনুভূতি;
প্রতিযোগীরা একবারও ভেবে দ্যাখেনি আমরাও জীব,
জীবন রাখতে চায় সুস্থ পৃথিবী ।

ভাবোনি কখনও
মরণোন্মুখ সভ্যতার কিনারে দাঁড়িয়ে নিষ্প্রাণ আন্তরিকতা দেখিয়ে
বিশ্বমানবতাকে রক্ষার ব্যর্থ প্রয়াস বড়ই বেমানান

      তাই আজ লাল পলাশের হাতছানিও উপেক্ষিত।

হয়তো একদিন প্রকৃতি ক্ষমা করবে
তার কোলে আশ্রয় দেবে
বসন্ত ফিরে আসবে, পাখিদের কলরবে ভরবে আকাশ
কখনও কি ভেবেছো ?
সেদিনের মেঘ ভাঙা সোনালী রোদ্দুরের হাতছানিও হতে পারে উপেক্ষিত
সাড়া দেওয়ার জন্যে থাকবে..
         হয়তোবা আমরা থাকবো না!

Comments

Popular Posts