page - 08 ( mrittikawebmag ) বরণ করবো তোমায় - অমল ভট্টাচার্য্য

জানো, জানালার ধারে একলা বসে আছি,
তোমার ছোট্ট আদরের মামণি ঘুমিয়ে পড়েছে,
আসলে ও অনেক ছোটো, বাবা বাবা করে কেঁদে কেঁদে বেচারি ঘুমিয়েই পড়লো।
সাতদিন, সাতরাত হয়ে গেল তোমাকে ও দেখেনি,
তোমার মুখ থেকে মামণি ডাক শোনেনি।
কিভাবে বোঝাই ওকে যে তুমি যুদ্ধের সৈনিক ।
দরজা তো বন্ধ থাকে, হাওয়ায় দরজা টা নড়ে উঠলেই ছোট্ট ছোট্ট কচি পায়ে , বাবা বাবা করে দৌড়ে দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়, তোমার কোনও আওয়াজ না পেয়ে ওর পবিত্র মুখটা দুঃখের ক্লান্তিতে ভরে যায়।
আমি দৌড়ে গিয়ে ওকে ভোলাবার চেষ্টা করি।
বাবা বাবা করে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে, কচি কচি হাত দিয়ে দরজা দেখিয়ে খুলে দিতে বলে।
বুঝতে পারি, তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্য ও কতোটা ব্যাকুল।
হতে পারে ও ছোট্ট, ওর ভালোবাসা অফুরান।

কি করছো তুমি এখন ? জানি হয়তো কোনও মুমূর্ষু রোগী কে ভেন্টিলেটর লাগাচ্ছো,
কিংবা হয়তো সেরে ওঠা কোনও রোগীর মনোবল বাড়াতে তাকে ভোকাল টনিক দিচ্ছ।
প্রোটেকশন স্যুট, মাস্ক ঠিকঠাক ব্যবহার করছোতো ?
আচ্ছা, হাসপাতালে যাওয়ার সময় আমি তোমাকে টাই বেঁধে দিতাম,
কিগো, ওখানে স্যুট কে পড়িয়ে দিচ্ছে?
হা হা হা, এই রাগ করোনা, একটু মজা করলাম।

রাত অনেক হলো, আগামীকাল আমাদের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী, মনে আছে তোমার ?
আমি চাই মনে না থাকুক, তুমি তো এখন ওদের ঈশ্বর।
আজ থেকে তিনবছর আগে তোমাকে আমার পড়ানো মালার ফল আমার কোলে,
আর তোমার শ্রমের ফল, তোমার প্রিয় স্টেথোস্কোপ তোমার গলে।
দুর থেকে ভেসে আসছে রবীন্দ্রসংগীতের সুর,
সেই সুরে সুরে আমি নিজেকে সমর্পণ করছি।
চোখের সামনে ভেসে উঠছে তোমার মতো হাজার হাজার বিজয়ী ডাক্তার, নার্সদের মুখ ।
শত্রু কে ধ্বংস করে ঘরে ফিরে আসছো তোমরা,
গ্রাম থেকে শহর সেজেছে আলোর মালায়,
একদিকে আজানের আওয়াজ,
অন্যদিকে গীর্জার ঘন্টা বাজছে,
আর , আর আমি শঙ্খ বাজিয়ে, লাল পাড়ের তসর পড়ে তোমাকে বরণ করছি।

Comments

Popular Posts